ক্রীড়া ডেস্ক :
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি ছোঁয়া দূরত্বে পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের যুবারা। ফাইনালে ওঠার পথে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন মোহাম্মদ মানিক।
মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে নেপালকে চাপে রাখে বাংলাদেশের যুবারা। বলের দখল ও মাঝমাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ফয়সাল-মোর্শেদরা। তাতে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল কোচ কক্সের দল।
মুরশেদ আলীর দারুণ এক পাসে বল পান নাজমুল হুদা ফয়সাল। তবে ডি-বক্সের ভেতর সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন তিনি। তার নেয়া শট পোস্টের বেশ বাইরে দিয়ে চলে যায়। অথচ সে সময় গোলপোস্টের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সতীর্থ রোনান সুলিভান।
তবে এই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। মুরশেদ আলীর মাপা ক্রসে বক্সের ভেতর জটলার মাঝে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন মোহাম্মদ মানিক। তার এই গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের ডাগআউট, প্রবাসী দর্শকরাও ভাসেন আনন্দে।
গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেপাল। তারা কিছু আক্রমণ গড়লেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল সজাগ। লিড পাওয়ার পর বাংলাদেশ আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং প্রতি-আক্রমণ থেকে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালায়। একবার জালের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে রোনান সুলিভানের গোলটি বাতিল হয়। তবে পরে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে নেপালের রক্ষণে চাপ ধরে রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৫ মিনিটে সতীর্থের লং পাসে ছুটে গিয়েও ভালো অবস্থানে বল স্পর্শ করতে পারেননি জয় আহমেদ। ছয় মিনিট পর নেপালের বিজ্ঞান খাদকার ফ্রি-কিক উপরের জাল কাঁপায়।
শেষ দিকে এসে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি। শেষ দিকে এসে রোনান সুলিভানের ভাই ডেকলান সুলিভানেরও অভিষেক হয়।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ভুটান। শনিবারের ফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে ভারত ও ভুটানের মধ্যকার বিজয়ী দলের বিপক্ষে। এর আগে, ২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
