আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের ছাদ থেকে পড়ে কর্মকর্তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য ? - Meghna News 24bd

সর্বশেষ


Thursday, October 15, 2026

আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের ছাদ থেকে পড়ে কর্মকর্তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য ?

 

ছাদ থেকে পড়ে নিহত জামাল উদ্দিন শিহাব 

সাভার প্রতিনিধি :

আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবন থেকে পড়ে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিন শিহাবের (

সাভার প্রতিনিধি :

আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবন থেকে পড়ে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার মো. জামাল উদ্দিন শিহাবের (৩৯) মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের জট খুলছে না। সিসিটিভি ফুটেজে ভবন থেকে লাফ দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে নানা প্রশ্ন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরে অবস্থিত শারমিন গ্রুপ থেকে আহত অবস্থায় জামাল উদ্দিন খান শিহাবকে উদ্ধার করে নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত জামাল উদ্দিন খান শিহাব গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে।

তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কারখানার অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী নাহার আকৃতার বৃষ্টি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে জামাল তাঁকে কারখানায় কিছুটা ঝামেলা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বুধবার সকালেও তাঁদের কথা হয়। তখন জামাল মালিকের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি তাঁর।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জামালের মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছে, তা নিয়ে কারখানার ভেতরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ভবন থেকে পড়ে যাওয়া, লাফ দেওয়া কিংবা অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ঘটনার আগে জামাল প্রায় ৪০ মিনিট কোথায় ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওই কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, ঘটনার পর কারখানায় কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দেননি।

ঘটনাস্থলে প্রাথমিক সুরতহালকারী আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাহিম বলেন, নিহতের হাত-পা ভেঙে গিয়ে থাকতে পারে। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

পরিবারের অভিযোগ, সহকর্মীদের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায়।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages