গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মঙ্গলবার ভোরে আড়াই ঘন্টা মুষলধারে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল অবস্থায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতায় কবলে পড়েছে সড়ক-মহাসড়ক, শিল্পকারখানা, পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস, দোকানপাঠ, মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌর বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ। তবে বিগত ২০ বছরে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টির অভিযোগ পৌর বাসিন্দাদের।
এলাকাবাসী, পোশাক শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক-যাত্রী ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভা একটি প্রথম সারির পৌরসভা। শত শত শিল্পকারখানা গড়ে উঠায় এখানে স্থানীয় বাসিন্দাসহ লক্ষ লক্ষ মানুষের বসবাস। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর ভবন ও মার্কেট, ড্রেন ভরাট এবং ড্রেনেজগুলো নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে অল্প বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে পৌরসভার ৫ ও ৭ নং ওয়ার্ডের হরিণহাটি, মুন্সিরটেক, বিশ্বাস পাড়া, চান্দরা পল্লীবিদ্যুৎ, দীঘিরপাড়, চন্দ্রা, পশ্চিম চান্দরা কারিকরপাড়া, ডাইনকিনি, হরতকিতলা, মাইওয়ান মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু পৌরসভা গঠনের গেল ২৪ থেকে ২৫ বছর পেরিয়ে গেলে জলাবদ্ধতার সমস্যা দুর করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে আড়াই ঘন্টা মুষলধারে বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকায় তলিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা-আবর্জনার নোংরা পানি ঢুকে পড়ে বিভিন্ন শিল্পকারখানা, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস, দোকানপাঠ, মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। কোথাও কোথাও সড়ক ডুবে হাটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠে যায়। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামাল। অপরদিকে ময়লা-আর্জনার নোংরা ও ডাইং কারখানার দুষিত ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্যেও ঝুঁকিতে পড়েছেন বলেও জানিয়েছেন বাসিন্দারা। আকস্মিকভাবে এই জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌর বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ। এছাড়াও হরিণহাটি এলাকায় স্টালিং কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও হাটু পানির ওপরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। অনেকেই জাল দিয়ে মহাসড়কে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা গেছে। এ কারণে মহাসড়কের ওই স্থান দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। শ্রমিকরা কর্মস্থলে পৌছাতে না পারায় কয়েকটি পোশাক কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশনের জন্য ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হওয়া ড্রেনেজ পরিষ্কার করছেন বাসিন্দাদের অনেকেই। অপরদিকে স্থবির হওয়া জনজীবন থেকে রক্ষার জন্য ভেকু দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টির হচ্ছে।
পোশাক কারখানার শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করাও সম্ভব হচ্ছে না। অপর পোশাক শ্রমিক নাহিদুল ইসলাম বলেন, হাটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় অনেকেই কর্মস্থলে যেতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে বিভিন্ন মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর ভবন ও মার্কেট, ড্রেন ভরাট এবং ড্রেনেজগুলো নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে অল্প বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায়। নিয়মিত কর ও ভ্যাট দেওয়ার পরও প্রতি বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। তবে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরিভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পৌর বাসিন্দারা।
এব্যাপারে কালিয়াকৈর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খাল ও ড্রেনগুলোর পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে এবং পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও ড্রেন পুনঃখননের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
