অনলাইন ডেস্ক :
১৯৩০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার নির্ভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন,গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে বাবা ভর্তি করিয়ে দেন,লেখাপড়ায় খুব মেধাবী স্কুলের শিক্ষকরা বলাবলি করেন ও একদিন বড় কিছু হবে ক্লাসে সবসময় প্রথম হতেন,ভাগ্যের নির্মম পরিহাস চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে বাবার মৃত্যু।
জীবনে নেমে আসলো কালো অন্ধকার ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি হলো
পরবর্তী সময়ে ১৯৪৩ সালে জীবিকার সন্ধানে মায়ের নিকট থেকে২ টাকা নিয়ে বাহির হয়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয়র নিকট যান,ওনি ততসময়ে আদমজী জুট মিলের সুপারভাইজার ছিলেন ওনাকে বিনয় করে বললেন জুটমিলে চাকরি দেওয়ার জন্য কিন্তু বয়স তখন ওনার মাত্র তের,কর্তৃপক্ষ চাকরী দিতে রাজী হয়নি বয়সের কারনে,পরবর্তী সময়ে সবশুনে কর্তৃপক্ষ সদয় হয়ে চাকরী দেন,আদমজী জুটমিলে ও অতি অল্পসময়ে মেধার পরিচয় দেন।
১৯৫২ সালে চলে আসেন ঢাকায় ২২ বছরের যুবক আব্দু মিয়া( ডাক নাম) ঢাকায় একটা ঔষধালয়ে উৎপাদন শাখায় শ্রমিক হিসাবে চাকরি নেয়, জীবনের টার্নিং পয়েন্ট সেখান থেকেই শুরু, দীর্ঘদিন চাকরি করার পর আব্দু মিয়ার চাকরীতে মনোযোগ বসেনি শুরু করলেন রেলস্টেশন বাসস্টপে দাঁড়িয়ে বাম জাতীয় ঔষধ বিক্রি, মেধাবী আব্দু মিয়া তাতে ও তৃপ্তি নেই, নিজ উদ্যেগে ঢাকার বস্তিতে বাসা নিয়ে তৈরি করেন বাম জাতীয় ঔষধ, রাতে বাম জাতীয় ঔষধ তৈরি করেন আর দিনের বেলায় নিজে নিজে বিভিন্ন স্হানে বিক্রি করেন। যা একসময় মিল্লাত বাম নামে পরিচিত ছিল
১৯৬৮ সালে ওনার উদ্যেগে তৈরি হয় মিল্লাত ঘামাচি পাউডার যা পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপক সারা ফেলে। আর ওনাকে পেছনে তাকাতে হয়নি।
পরবর্তী ইতিহাস সকলের জানা ১৯৯১ও ১৯৯৬সালে ব্রাহ্মণ বাড়ীয়া-৪ আসন হতে পরপর দু'বার জাতীয় সংসদের এমপি নির্বাচিত হন।
গুণী মানুষটি ২০২৬ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারী ২ছেলে মিল্লাতুজ্জামান ও মেহফুজজ্জামান ও অসংখ্য ভক্ত রেখে চিরবিদায় নেন।
আল্লাহ ওনাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন-আমিন।
লেখাটি ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত
