শ্রমিক আন্দোলন ইন্ধনের তালিকায় আওয়ামীলীগপন্থি মালিকদের কারখানার নাম - Meghna News 24bd

সর্বশেষ


Friday, November 6, 2026

শ্রমিক আন্দোলন ইন্ধনের তালিকায় আওয়ামীলীগপন্থি মালিকদের কারখানার নাম



 নিজস্ব প্রতিবেদক :

শ্রমিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। সহিংসতার পেছনে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিল্পপতির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকায় সেপাল, রেনেসাঁ, তুসুকা, মসল, হামিম, ইসলাম ও বেক্সিমকোর মতো শিল্পগ্রুপের নাম রয়েছে। এদিকে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় কারা লোকবল সরবরাহ করেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে কয়েক দিন ধরে উত্তাল ছিল গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর মিরপুর। দফায় দফায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি কোথাও কোথাও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে রোববার (১ নভেম্বর) ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। একই দিন শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা। সেখানে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে।

তবে পাঁচ থেকে ছয় দিনের আন্দোলনে সহিংসতার নেপথ্যে উঠে এসেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম। কারখানায় হামলা-ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন ও পুলিশকে মারধরের মতো ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত একটি তালিকায় কয়েকটি পোশাক কারখানা ও সেগুলোর মালিকদের নাম উঠে এসেছে। তিন পৃষ্ঠার তালিকাটির শিরোনাম ‘গাজীপুর জেলার আওয়ামী লীগপন্থি মালিকের কারখানার তালিকা’।

এতে কারখানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পগ্রুপ, মালিক ও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেপাল গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেনেসাঁ গ্রুপের একাধিক কারখানার নামও রয়েছে। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ুন রশীদ বাদলের তুসুকা গ্রুপ এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মসল গ্রুপসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছে হামিম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদ, ইসলাম গ্রুপের মালিক আতিকুল ইসলাম, স্টারলিং গ্রুপের মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমানের নাম। শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে বলে জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘যারা নাশকতা করছে, তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খোঁজখবর নিচ্ছে। নিশ্চয়ই তারা নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সাধারণ শ্রমিকদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, তাদের অনেকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে খুব বেশি সম্পৃক্ত নন। অনেকে জানেনও না, কী কারণে আন্দোলন হচ্ছে।’

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব ঘটনার পেছনে কারা ছিল, কোনো পক্ষ পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের উত্তেজিত করেছে কি না কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আন্দোলনে অর্থ ও লোকবল সরবরাহ করেছে কি না-এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজও করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমেও যেসব ভিডিও ক্লিপ পেয়েছি, সেগুলোতে উসকানিদাতা ও ইন্ধনদাতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। যারা উসকানি দেয়ার চেষ্টা করবেন, তাদের জন্য আমাদের বার্তা হলো-উসকানি দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আমরা তাদের শনাক্ত করব এবং দেশের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলার ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages