নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বল্প বেতনের সরকারি চাকরি অথচ জীবনযাপন বিলাসিতার চূড়ায়। সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির পাহাড় গড়ার বিস্ফোরক সব অভিযোগ। অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তোলপাড় চলছে স্থানীয় মহলে। এমনকি দুর্নীতির তথ্য জানতে চাইলে সাংবাদিকদের 'পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া'র হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাকির হোসেনের নিজ জেলা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রয়েছে বিলাসিতার রাজত্ব। মির্জাপুরের বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ বিঘা জমি এবং একটি ছয়তলা আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। এছাড়া সাভার ও মির্জাপুরের বিভিন্ন মৌজায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি ও মার্কেট রয়েছে তার। অভিযোগ আছে, বন বিভাগের জমি দখল করে তিনি গড়ে তুলেছেন বাংলো বাড়ি। শ্বশুরবাড়ির এলাকায় ৩ একর জমিতে রয়েছে তার বিশাল মাছের ঘের।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে স্ত্রী মনিরা সুলতানার নামে রয়েছে ২,৫০০ বর্গফুটের বিশাল ফ্ল্যাট। এছাড়া মিরপুরে ৫ কাঠা জমিতে নির্মিত হচ্ছে ৭ তলা ভবন। নিজের ছেলেকে পড়ান নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে, যার মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা। তার ব্যক্তিগত গ্যারেজে রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-জিএ ২৫-২১২৭)। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাভার অফিসে যাতায়াতের জন্য তিনি নিজের গাড়ি ব্যবহার না করে মাসে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করেন, যা তার সরকারি বেতনের চেয়েও বেশি।
সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর থেকেই জাকির হোসেন গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য: বিলামালিয়া ও বড়বরদেশী মৌজায় জমি রেজিস্ট্রেশনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে গোপনে দলিল সম্পাদন করছেন তিনি।
রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতি: জমির শ্রেণী পরিবর্তন এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আত্মসাৎ করছেন।
ভয়ভীতি প্রদর্শন: দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে তিনি ৫ কোটি টাকা খরচ করে বদলি হয়ে আসার দম্ভোক্তি করেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে কোনো দলিল সম্পন্ন করেন না বলে অভিযোগ সাধারণ দলিল লেখকদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, জাকির ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে ফায়দা লুটছেন।
তার বিরুদ্ধে অফিস চলাকালীন সময়ে মাদক সেবন এবং সহকর্মীদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা। বিষয়টি প্রমাণে তার 'ডোপ টেস্ট' করানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিপুল এই অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
