আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক জুট ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ব্যবসায়ীর, তার ছেলে ও তার এক বন্ধুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতদের মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ভূঁইয়া পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে জুট ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছেন মো. আমিরুল সরকার। তার ছেলে মো. আইয়ুব (২৫) বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক মাস ধরে একই এলাকার মারুফ ভূঁইয়া, জাকারিয়া, রাকিব, খাইরুলসহ আরও ৭–৮ জনের একটি গ্রুপ তাদের কাছে নিয়মিতভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চাঁদা দাবি করলে আইয়ুব তাতে বাধাঁ দেয় ফলে তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা পিস্তল, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আচমকা আইয়ুব ও তার বন্ধু আরিয়ান (২৩)-এর ওপর হামলা চালায়। বেধড়ক মারধরে দুজনই মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় আরিয়ানের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইয়ুবের মাথায় চারটি এবং আরিয়ানের মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিযুক্তরা আইয়ুবের হোয়াটসঅ্যাপে হুমকিমূলক বার্তা পাঠিয়ে জানায়, ঘটনার বিষয়ে মুখ খুললে বা কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যা করা হবে। সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করেও পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জামগড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও মাদক কারবারের বিস্তারের পেছনেও মারুফ ভূঁইয়াসহ তার সহযোগীদের একটি গ্রুপ জড়িত। বিভিন্ন অপরাধে তাদের নাম আলোচিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মো. আইয়ুব আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
